অটিজম: একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা

অটিজম (Autism Spectrum Disorder – ASD) একটি স্নায়বিক বিকাশজনিত অবস্থা, যা সামাজিক যোগাযোগ, আচরণ ও ভাষা বিকাশে প্রভাব ফেলে। এটি সাধারণত শিশুদের ছোট বয়স থেকেই লক্ষ করা যায় এবং সারা জীবন স্থায়ী হতে পারে।

অটিজমের সাধারণ লক্ষণ:
✅ সামাজিক যোগাযোগের সমস্যা:
•⁠ ⁠চোখে চোখ রেখে কথা বলতে না চাওয়া
•⁠ ⁠আবেগ প্রকাশে অসুবিধা
•⁠ ⁠বন্ধুত্ব গড়তে বা সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় আগ্রহ কম থাকা

✅ আচরণগত বৈশিষ্ট্য:
•⁠ ⁠নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া
•⁠ ⁠একটানা একই কাজ বা আচরণ বারবার করা (Repetitive behavior)
•⁠ ⁠আলো, শব্দ বা স্পর্শের প্রতি অতিসংবেদনশীল বা অসংবেদনশীল হওয়া

✅ ভাষা ও যোগাযোগের সমস্যা:
•⁠ ⁠দেরিতে কথা শেখা বা একদম না বলা
•⁠ ⁠একই কথা বারবার বলা (Echolalia)
•⁠ ⁠ইঙ্গিত বা অঙ্গভঙ্গি বুঝতে সমস্যা হওয়া

অটিজমের কারণ:
অটিজমের নির্দিষ্ট কারণ এখনও পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে এটি জিনগত ও পরিবেশগত কারণের সংমিশ্রণে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

প্রতিকার ও সহায়তা:
✅ বিশেষ শিক্ষা ও থেরাপি: স্পিচ থেরাপি, বিহেভিয়ারাল থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি শিশুর উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।
✅ সঠিক পরিচর্যা: ধৈর্য, ভালোবাসা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবনে উন্নতি করতে পারে।
✅ প্রত্যাশিত পরিবেশ তৈরি: শিশু বা ব্যক্তির সুবিধা অনুযায়ী শিক্ষার পরিবেশ ও দিনচক্র তৈরি করা প্রয়োজন।
✅ ডাক্তারের পরামর্শ: যদি কোনো শিশু অটিজমের লক্ষণ দেখায়, তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অটিজম কোনো অসুস্থতা নয়, বরং এটি একটি বিশেষ ধরনের স্নায়বিক বিকাশভঙ্গি। সঠিক দিকনির্দেশনা ও যত্নের মাধ্যমে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমাজে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারে।

Scroll to Top