খেলাধুলা করতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত পাওয়া সাধারণ বিষয়। তবে সঠিক চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
—
সাধারণ আঘাত ও তাদের কারণ:
✅ মাংসপেশির টান (Muscle Strain):
• অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ওয়ার্ম-আপ ছাড়া ব্যায়াম করলে হতে পারে।
• পেশির অতিরিক্ত প্রসারিত হলে ব্যথা ও ফোলা দেখা যায়।
✅ গাঁটে আঘাত (Sprain):
• লিগামেন্ট বা জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ পড়লে হয়।
• সাধারণত গোড়ালি, হাঁটু ও কব্জিতে বেশি হয়।
✅ হাড়ে চিড় (Fracture) বা ভাঙন:
• ভারী আঘাতের কারণে হাড়ে ফাটল বা ভাঙন দেখা দেয়।
• এটি খেলাধুলায় বেশি দেখা যায়, বিশেষত ফুটবল, বাস্কেটবল ও ক্রিকেটে।
✅ গোড়ালি মচকানো (Ankle Sprain):
• দৌড় বা লাফানোর সময় পায়ের ভুল ভঙ্গির কারণে হয়।
✅ ঘাড় ও পিঠে আঘাত:
• ভারী ব্যায়াম বা রাগবি, কুস্তি ইত্যাদি খেলায় বেশি হয়।
✅ নিতম্ব ও হাঁটুতে আঘাত:
• দৌড়বিদ ও সাইক্লিস্টদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
—
প্রাথমিক চিকিৎসা (R.I.C.E পদ্ধতি)
যেকোনো আঘাতের পর তাৎক্ষণিকভাবে R.I.C.E পদ্ধতি অনুসরণ করুন:
🔹 R (Rest): আঘাতপ্রাপ্ত স্থান বিশ্রামে রাখুন।
🔹 I (Ice): ১৫-২০ মিনিট বরফ সেঁক দিন, দিনে কয়েকবার করুন।
🔹 C (Compression): ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ দিয়ে ব্যান্ডেজ করুন, তবে বেশি টাইট নয়।
🔹 E (Elevation): আঘাতপ্রাপ্ত স্থান উঁচু করে রাখুন, যাতে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে।
—
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা:
✅ খেলার আগে ওয়ার্ম-আপ ও স্ট্রেচিং করা
✅ সঠিক কৌশল ও গিয়ার ব্যবহার করা
✅ অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে ফিটনেস বৃদ্ধি করা
✅ পর্যাপ্ত পানি পান করা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
✅ আঘাত বেশি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
যদি আঘাত গুরুতর হয়, যেমন হাড় ভাঙা বা পেশি ছিঁড়ে যাওয়া, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।